অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৮৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
তিনি জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল রিজিয়ন সদর দপ্তরের আওতাধীন সিলেট, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সেক্টরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার। চারটি সেক্টরের অধীনে থাকা এসব সীমান্ত এলাকায় ১৩টি ইউনিটের মাধ্যমে ২১১টি সীমান্ত চৌকি সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিজিবি কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের ফলে চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কার্যকর হয়েছে। এসব তৎপরতা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।