সফলভাবে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) এর আয়োজনে ৯ম আন্তর্জাতিক এন্ডোক্রাইন কনফারেন্স ও বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ ও ৬ নভেম্বর মোট ২ দিনব্যাপী এবারের আয়োজনে অংশ নেন দেশের প্রায় ৪৫০ জন এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, নেপাল, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান থেকেও এসেছেন প্রায় ১৫ জন এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞ। আয়োজনে ছিল প্যানেল ডিসকাশন, রিসার্চ ও পোস্টার প্রেজেন্টেশনসহ এন্ডোক্রাইনোলজি ডিসিপ্লিনের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নানান আয়োজন। আন্তর্জাতিক ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ডা. উইলিয়াম এফ. ইয়াং জুনিয়র, প্রফেসর ডা. হিরোশি আরিমা ও প্রফেসর ডা. নেমেনসিও এ. নিকোডেমাস জুনিয়র, ডা দিনা শ্রেষ্ঠা, অধ্যাপক আলী আসগর।
দুই দিনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে তরুণ এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের ১২টি ফ্রি পেপার, ১৪টি “স্মল ফিডস অব মাইন্ড” বক্তৃতা ও ২৮টি পোস্টার উপস্থাপনা ছিল আয়োজনের অংশ হিসেবে। পিটুইটারি ও অ্যাড্রেনাল, প্যারাথাইরয়েড ও হাড়ের স্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, প্রজনন এন্ডোক্রাইনোলজি, স্থূলতা ও পোস্টেরিয়র পিটুইটারির মতন বিষয় নিয়ে মোটকথা আয়োজনের দু’দিনে মোট ২৪টি সেশনে দেশ ও বিদেশের স্বনামধন্য এন্ডোক্রাইনোলজিস্টদের প্রায় ৮০টি প্রেজেন্টেশন ছিল। । এর পাশাপাশি ছিল ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠান আয়োজিত সিম্পোজিয়াম।
আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে ছিল এন্ডোক্রাইনোলজির শিক্ষার্থীদের জন্য এন্ডোক্রাইন কুইজ। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের রিসার্চ গ্র্যান্ট বিজয়ীরা তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এই দিনে। তরুণ উদীয়মান এন্ডোক্রাইনোলজিস্টদের গবেষণার জন্য বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি থেকে ২০২৬ সালের চারজনকে অনুদান দেয়া হয়।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ড. এম এ মুহিত, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন তিনি।
কনফারেন্স শেষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ এতে সভাপতিত্ব করেন বিইএস এর প্রেসিডেন্ট ডা. ফারিয়া আফসানা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. শাহজাদা সেলিম, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. হাফিজুর রহমান ও চিফ পেট্রন অধ্যাপক ফারুক পাঠান। ফিনানশিয়াল রিপোর্ট প্রকাশ করেন সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান।
বিইএস সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, ‘এন্ডোক্রাইনোলজির সর্বশেষ অগ্রগতি দেশের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তরুণ গবেষকদের সহায়তা করতে সোসাইটি কাজ চালিয়ে যাবে’। সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার পাশাপাশি এবারের আয়োজন সফল করে তোলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রধান অতিথি ডা. এম এ মুহিত, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেন, ‘নতুন গবেষক তৈরিতে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি যেভাবে অনুদান ও উৎসাহ দিচ্ছে তা অন্যান্য ডিসিপ্লিনের সোসাইটিগুলোর জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এসব গবেষণা যেমন দেশীয় অর্জন তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে’।