রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
Title :
শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে: জ্বালানিমন্ত্রী গাজাসহ ফিলিস্তিনে ১ কোটি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা আরব আমিরাতের হাম উপসর্গে একদিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু রাড্ডায় ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালমানের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কঙ্গোতে বিমান বিধ্বস্ত, দুই জেনারেলসহ নিহত ১৪ হামের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ থেকে বিশেষ টিকাদান, টিকা পাবে ৩৪ লাখ শিশু চুক্তির শর্ত মানলে সাতদিনেই হরমুজ খুলবে: ইরান

কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের মালিক ডা. আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ

  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০৫ Time View

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক ও কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের মালিক ডা. মো. আব্দুল হকের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আয়কর ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. আব্দুল হক বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কুমিল্লা শহরে দুটি ট্রমা সেন্টার ও একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনা করছেন। এছাড়া কুমিল্লা সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকার মদিনা মসজিদ রোডে তার মালিকানায় সাততলা একটি ভবন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ডা. আব্দুল হকের অন্যতম ব্যবসায়িক অংশীদার ইউসুফ চৌধুরী বাবুল, যিনি সাবেক সরকারি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। ইউসুফ চৌধুরী বাবুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগে বর্তমানে দুদক কুমিল্লা কার্যালয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই তদন্তে ডা. আব্দুল হকের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে। পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকেও ইউসুফ চৌধুরী বাবুল ডা. আব্দুল হকের ভগ্নিপতি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তারা দুজনই দুর্নীতিলব্ধ অর্থ ব্যবহার করে শেয়ার ও বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একজন সরকারি চিকিৎসকের পক্ষে এ ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল ও বৃহৎ ব্যবসার মালিক হওয়া স্বাভাবিক নয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। ডা. আব্দুল হকের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অবৈধ আয় বিভিন্ন কৌশলে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে তার আয়কর নথি ও সম্পদের উৎস যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে, ডা. আব্দুল হকের মালিকানাধীন কুমিল্লা ট্রমা সেন্টার হাসপাতালের ভবন নির্মাণ নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের শর্ত অমান্য করে নির্মিত ওই ভবনের অবৈধ অংশ অপসারণে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ১৫ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অনুমোদিত নকশা ও শর্ত উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ করা হয়। এ বিষয়ে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রথম নোটিশ এবং ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।

সবশেষ গত বছরের ২১ মে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সেটব্যাক ও সীমানা বিধি মানা হয়নি এবং ভবনের আকার-আকৃতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ অংশ অপসারণ না করলে নকশা অনুমোদন বাতিল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের দুটি ভবন এখনও আগের মতোই অক্ষত রয়েছে। ভবনের কোনো অংশ অপসারণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের সামনে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করায় নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নোটিশ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category