গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য ১ কোটি বা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুবাইয়ে আয়োজিত এক বড় মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব খাদ্য সহায়তা প্রস্তুত করা হয়। মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘আহমেদ বিন রশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ শীর্ষক কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
গাজার অসহায় পরিবার ও শিশুদের মধ্যে বিতরণের জন্য খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তৈরির এ আয়োজনে শত শত স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।
ন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ আহমেদ বিন সাঈদ বলেন, সারাজীবন মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদ দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি উদারতা, বিনয় এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হয়ে বেঁচে ছিলেন।
এমবিআরজিআই-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আল গারগাবি বলেন, এই আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিরন্তন মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সূচনালগ্ন থেকেই শেখ আহমেদ বিন রশিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অসামান্য অবদান ও সামাজিক প্রভাব সর্বজনস্বীকৃত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র সরবরাহের একটি বড় কর্মসূচি শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আসন্ন শীত ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সময়ে ফিলিস্তিনিদের উষ্ণতা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘জায়েদ চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ ৫০ হাজার জ্যাকেট, মৌসুমি প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং কম্বলসহ ৫ হাজার উইন্টার কিট বিমানযোগে গাজায় পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের নির্দেশনায় শুরু হওয়া ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর আওতায় গাজায় এ পর্যন্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বা ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহাম সহায়তা পাঠানো হয়েছে। এ সহায়তা গাজায় পাঠানো মোট বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার প্রায় ৪৬ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত ৭৯৬টি বিমান, ২৫টি কার্গো জাহাজ এবং ১৪ হাজার ৩টি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী গাজায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অংশীদারত্বে গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য ১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল এমবিআরজিআই। সংস্থাটি শুধু ২০২৫ সালেই বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কল্যাণে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন দিরহামের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।
এ ছাড়া গাজার স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করা এবং শিশুদেরসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে ৩ কোটি ৭০ লাখ দিরহাম অনুদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।