সার্জারি বা অস্ত্রোপচার নিয়ে এবার সামনে এসেছে ভিন্ন এক তথ্য। সাম্প্রতিক দুটি গবেষণার ফল বলছে, যারা নারী সার্জনের কাছে অস্ত্রোপচার করেন, তারা তুলনামূলক কম জটিলতায় ভোগেন এবং দীর্ঘমেয়াদী ‘কার্যকর’ ও ‘নিরাপদ’ সেবা পান।বুধবার (৩০ আগস্ট) ‘জামা সার্জারি’তে প্রকাশিত দুটি গবেষণার ফলে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
টরন্টোর মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চিকিৎসক ক্রিস্টোফার ওয়ালিসের নেতৃত্বে কানাডা ও সুইডেনের চিকিৎসকরা ১০ লাখেরও বেশি অস্ত্রোপচারের রোগীদের নিয়ে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সার্জারির পর কানাডার রোগীদের প্রায় এক বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার ফলে দেখা গেছে, যারা নারী সার্জনের কাছে অস্ত্রোপচার করেছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা, হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর হার অনেক কম।
গবেষণার ফলে দেখা গেছে, পুরুষ সার্জনদের ২৫ শতাংশ রোগী অস্ত্রোপচারের পর কোনো একটি জটিলতা অনুভব করেছিলেন; অন্যদিকে নারী সার্জনের অধীনে থাকা রোগীদের মধ্যে এই হার ২১ শতাংশেরও কম। এছাড়া মৃত্যুহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পুরুষ সার্জনরা যাদের চিকিৎসা দিয়েছেন এক বছর পর তাদের মধ্যে ২.৪ শতাংশ রোগী মারা গেছেন; অন্যদিকে নারী সার্জনদের ক্ষেত্রে এই হার ১.৬ শতাংশ।
সুইডেনের মোরা হাসপাতালের সার্জন ডা. মাই ব্লহমের নেতৃত্বে পিত্তথলির পাথর অপসারণের দেড় লাখ রোগীর ওপর গবেষণা চালানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাদের ৩০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
উভয় গবেষণায় উঠে এসেছে, নারী সার্জনরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় আরও পদ্ধতিগতভাবে এবং বেশি সময় নিয়ে অস্ত্রোপচার করেন। এক্ষেত্রে গবেষণায় উঠে এসেছে, পুরুষ সার্জনরা একটি অস্ত্রোপচারের জন্য গড়ে ৮৯ মিনিট সময় নেন; অন্যদিকে একই ধরনের অস্ত্রোপচারে নারীরা নেন ১০০ মিনিট বা দেড় ঘণ্টা।
কিন্তু কেন এমন পার্থক্য? এ বিষয়ে জার্নালের সহকারী লেখক ডা. মার্টিন অ্যালমকুইস্টের বলেছেন, ‘এটি ঝুঁকি গ্রহণের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, সার্জনের অন্যদের সহযোগিতা করার ক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।’
সুইডেনের লুন্ডের স্কেন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সার্জন অ্যালমকুইস্ট বলেছেন, ‘এটি এখনও প্রমাণিত হয়নি যে কীভাবে নারী সার্জনরা পুরুষ চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে গেছে। তবে এক্ষেত্রে নারী সার্জনদের ব্যক্তিত্বের নানা বৈশিষ্ট্য অবদান রাখতে পারে।’