মারা গেছেন ভারতের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ। শুক্রবার (১১আগস্ট) সকালে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
এদিন বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহের মরদেহ কলকাতার মিন্টো পার্কের বাড়িতে আনা হয়েছে।গত বছর খানেক ধরে বিভিন্ন ধরনের বার্ধক্যজনিত রোগের কারণে ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে বিজ্ঞানীমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সয়ের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ভেরিয়েবল এলার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের হোমি ভাবা অধ্যাপক পদেও ছিলেন তিনি।
পরমাণু গবেষণার বিজ্ঞানী হিসেবে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে ২৭ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সায়েন্টিফিক এডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। পরে ২০০৯ সালে পুনরায় এই পদের জন্য মনোনীত হন এই বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী।
বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ রায় ২০১০ সালে ভারতের ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান পান।
বিকাশ সিংহের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শোক প্রকাশ করে টুইটারে লিখেছেন, বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহের অকাল প্রয়াণে শোকাহত। বাংলার কৃতি সন্তান হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের দুনিয়াকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এই পরমাণু বিজ্ঞানী নিজের জীবনশৈলির মাধ্যমে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। ২০২২ সালে তাকে ‘বঙ্গবিভূষণে’ সম্মানিত করতে পেরে আমরা ধন্য। তিনি যে পুরস্কার নিতে সশরীরে মঞ্চে এসেছিলেন, তা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে।
গত কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিলেবাস কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন পরমাণু পদার্থ বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ।
১৯৪৫ সালে মুর্শিদাবাদের কান্দি রাজ পরিবারে জন্ম হয় বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহের। বিকাশ সিংহের বাবার নাম বিমলচন্দ্র সিংহ, দাদা অতীশ সিংহ। বিকাশ সিংহ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গ্ৰ্যাজুয়েট করার পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যান। দেশে ফিরে এসে যোগ দিয়েছিলেন ভাবা এটমিক রিসার্চ সেন্টারে।কলকাতায় ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও সেটিকে বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী।