বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

রাহুল গান্ধীকে সংসদে ফেরাতে তৎপর কংগ্রেস

  • Update Time : রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ৭১ Time View

মোদী পদবি অবমাননা মামলায় শুক্রবার (৪ আগস্ট) ভারতের শীর্ষ আদালতে বড় স্বস্তি পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই মামলায় সুরাট আদালত রাহুলকে দু’বছরের জন্য জেলের সাজা শোনালেও, সুপ্রিম কোর্ট তার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই যে প্রশ্নটা অবধারিতভাবে উঠতে শুরু করে, তা হলো রাহুল কী এবার সংসদ সদস্য পদ ফিরে পাবেন? কারণ, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণেই সংসদ সদস্যের পদ খোয়াতে হয়েছিল তাকে। রাহুলের পদ ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য স্পিকারকে আর্জি জানায় কংগ্রেস। শনিবার এই মর্মে আদালতের রায়ের কপিও লোকসভার সচিবালয়ে জমা দেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য অধীররঞ্জন চৌধুরী। তবে সচিবালয়ের তরফে তা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাহুলকে দ্রুত সংসদে ফেরানোর আর্জি জানানো হয়েছে। দল মনে করছে, রাহুলের সংসদ সদস্য পদ ফেরানো নিয়ে লোকসভার সচিবালয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে মণিপুর নিয়ে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন তিনি। তবে এই বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে অধীর শনিবার জানান, যে দ্রুততায় রাহুলের সংসদ সদস্য পদ খারিজ করা হয়েছিল, সেই একই দ্রুততায় তার পদ ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে না।

সংবাদমাধ্যমকে অধীর বলেন, আদালতের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরেই আমি স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। অধীর এই প্রসঙ্গে জানান, শনিবার স্পিকার ওম বিড়লা তাকে লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। অধীরের সংযোজন, রায়ের কপি সেক্রেটারি জেনারেলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হলে, তিনি জানান, শনিবার ছুটির দিন থাকায় তার দপ্তর বন্ধ থাকবে। আমি তাকে প্রশ্ন করি, তবে কার কাছে আমি এটা জমা দেব? তিনি আমায় বলেন, স্পিকারকে রায়ের কপি দিতে। স্পিকারের অফিস থেকেই তার কাছে সেটা চলে যাবে বলে জানান তিনি।

অধীর জানান, তিনি পরে রায়ের কপি, রাহুলের সংসদ সদস্য পদ খারিজের নির্দেশিকা ও একটি চিঠি লোকসভার সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন। সচিব পদমর্যাদার একজন তা গ্রহণও করেছেন। তবে অধীর জানিয়েছেন, তার পাঠানো নথিতে প্রাপকের সই থাকলেও সরকারি কোনো সিলমোহর পড়েনি। যা থেকে কংগ্রেসের অন্দরেই সংশয় ঘনীভূত হয়েছে যে, আদৌ কি রায়ের কপি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে লোকসভার সচিবালয়? এই দোলাচলের মাঝেই অধীর বলেন, আদালত যখন রাহুল গান্ধীকে স্বস্তি দিয়েছে, তখন স্পিকার ও তার অফিসের কাছে আমার অনুরোধ, এ ক্ষেত্রে (পদ ফেরানোর ক্ষেত্রে) যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় কর্নাটকের কোলারে ‘মোদী’ পদবি তুলে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে গত ২৩ মার্চ গুজরাটের সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচএইচ বর্মা দু’বছর জেলের সাজা দিয়েছিলেন রাহুলকে। গুজরাটেরর সবেক মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক পূর্ণেশ মোদীর দায়ের করা ওই ‘অপরাধমূলক মানহানি’ মামলায় দোষী রাহুলের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদনের জন্য তাকে ৩০ দিন সময় দিয়েছিলেন বিচারক। সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২৪ মার্চ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতীয় সংবিধানের ১০২(১)-ই অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫১)-র ৮(৩) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাহুলের সংসদ সদস্য পদ খারিজ করেছিলেন।গত ৭ জুলাই গুজরাট হাই কোর্টের বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছকের বেঞ্চও সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায় বহাল রাখায় সাজা এড়াতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কেরলের ওয়েনাড়ের সাবেক কংগ্রেস সংসদ সদস্য। আইনজীবীদের একাংশ মনে করেছেন, শীর্ষ আদালত সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় পদ ফিরে পেতে পারেন রাহুল। সুরাট দায়রা আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের মতো রাহুলের আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তার জেলে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়তো। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ জেলযাত্রা থেকে রেহাইয়ের পাশাপাশি রাহুলের সংসদ সদস্য পদ ফেরানোর পথও প্রশস্ত করলো বলে মনে করছে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category