বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন

রাজউকে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের হাতে আটকে থাকছে ফাইল

  • Update Time : সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩
  • ১৮১ Time View

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাড়পত্র-নকশা অনুমোদনের জন্য ফি’র অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন সেবাগ্রহীতারা। এসব অর্থের সিংহভাগই দালালের মাধ্যমে যায় কর্মকর্তাদের হাতে। রাজউকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে চুক্তি করে সুনির্দিষ্ট হারে নিয়মবহির্ভূত অর্থ নেওয়া হয়। আর অর্থ দিতে ব্যর্থ হলেই সেবাগ্রহীতাকে অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস।অনিয়ম আর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় ঘটনা বেশি ঘটে রাজউকের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও রেখাকারের মাধ্যমে। বড় কর্মকর্তার তাগিদ থাকলেও তারা পেরে উঠছেন না ছোট কর্তার কারণে। আবেদন জমা হলেই নানাভাবে ভুল ধরিয়ে অর্থ আদায়ের নকশা আঁটেন তারা। এভাবেই প্রতিনিয়ত সাধারণ সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা হলে এ ক্ষোভপ্রকাশ করেন। তাদের দাবি, বনশ্রী, সবুজবাগ ও বাসাবো এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় এ অনিয়ম বেশি হয়।

সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অধিকাংশই আবাসন কোম্পানির মালিক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জমির মালিক। তাদের দাবি, কোনো প্রকল্প দ্রুত শেষ হলে সরকার সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায়, দেরি হলেই রাজস্ব হারায়। এ অনিয়ম বন্ধ হলে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি আবাসন সংকট দূর হবে।

এ বিষয়ে রাজউক বলছে, এখন থেকে পাঁচদিনের বেশি ফাইল ধরে রাখতে পারবেন না কোনো কর্মকর্তা। এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে অন্য কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে ফাইল। মনিটরিং করা হবে। এরপরও যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তা মৌখিক বা লিখিত হলেও তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, দালালদের দৌরাত্ম্য বেশি রাজউকে। দালালদের বেশিরভাগ রাজউকের কর্মচারী, রয়েছে বহিরাগতরাও। কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমন অনিয়ম করেন তারা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে এ অনিয়ম বেশি হয়। তারাই মূলত অর্থের লেনদেন করেন। বিশেষ করে আবেদনে ভুল রয়েছে এমন অজুহাতে সেবাগ্রহীতাকে অনুমোদনের নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করেন তারা।

কথা হয় ফয়সাল নামে এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে। একটি আবাসন কোম্পানির কর্মকর্তা ফয়সাল বলেন, ‘রাজউকে ফাইল জমা হলেও মাসের পর মাস সময় নেন নিচের লেবেলের (দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি) কর্মকর্তারা। কোনো ভুল না থাকলেও অর্থের জন্য ভুল ধরার চেষ্টা করেন তারা। এটি বেশি হয় অঞ্চল-৬ এ। সেখানের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও রেখাকার পর্যায়ে এ সমস্যা বেশি হয়।’

নানা অভিযোগ-আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম  বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন হলে কোনো সমস্যা আছে কি না সেটা নিচের লেবেল থেকে কোয়ারি করা হয়। এটাও ঠিক যে, মানুষকে হয়রারি করা হয়, তবে মানুষ ৫ থেকে ১০ শতাংশ হতে পারে। তবে ৯০ শতাংশ কোয়ারি সঠিক হয়। এজন্য আমরা একটা নীতিমালা করেছি, কোন কর্মকর্তার কাছে কতদিন ফাইল পড়ে থাকছে। একজন ইন্সপেক্টর সর্বোচ্চ পাঁচদিন ফাইল ধরে রাখতে পারবেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত না দিতে পারলে অটোমেটিকভাবে পরবর্তী কর্মকর্তার কাছে যাবে ফাইল। তিনিও সমাধান না দিতে পারলে এর উপরের কর্মকর্তার কাছে যাবে। যাতে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।’

তিনি বলেন, ‘একজনের কাছে দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে অন্য জনের কাছে যাবে ফাইল। একটি প্ল্যান পাস করতে ৪৫ দিন লাগে, ছাড়পত্র নিতে ৩০ দিন। এটা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এ নিয়ে একটা অর্ডার হবে। এরপরও যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরি করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে (মৌখিক বা লিখিত) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category