গত কয়েক সপ্তাহে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চিতুলীয়া পাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে যমুনার তীব্র ভাঙন। ভাঙনে নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। অব্যাহত ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধনসহ সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২ঘন্টা ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের চিতুলিয়া পাড়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করে তারা। বিক্ষোভ ভাঙন কবলিত এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। অবরোধের কারনে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
এদিকে খবর ঘটনাস্থলে ছুটে যান ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হসেন। তিনি তাৎক্ষণিক ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ঘোষনা দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব আনোয়ার হোসেন বলেন, গত প্রায় একমাস থেকে এই এলাকায় ধরলার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমার বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমি পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ভাঙন কবলিত এলাকায় সুজন মিয়া বলেন, নদীর ভাঙনের কারণে এপর্যন্ত আমি কয়েকবার আমার বসতভিটা হারিয়েছি। এবারের ভাঙনেও আমার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে যে এলাকায় জিও ফেলার দাবিতে লোকজন আন্দোলন করছিল সে এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ঘর করে দেয়া হবে। এছাড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনিরের হস্তক্ষেপে গত রোববার থেকে ৫৫ম মিটার এলাকা জুড়ে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন- ভূঞাপুরের যমুনা পূর্ব পাড়ের চিতুলিয়া পাড়া এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।