দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বিরোধ চলছে চীনের। অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখে প্রায়ই সংঘাতে জড়ায় দেশদুটির সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে কাজে লাগতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর তাতে সাড়া দিয়ে নিজেকে রক্ষায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে যান।
দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর। শুধু তা-ই নয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির প্রভাব নিয়ে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও। সেটা প্রতিরোধের একটা প্ল্যাটফর্ম পাওয়ায় তারা সবাই ছোটে জি-সেভেন জোটসভায়।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়াকে মোকাবিলায় আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন স্বার্থকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো। এই কৌশল কতটা কাজে লাগবে আসলে। চীন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর পাশে থাকলেও রাশিয়ার ক্ষেত্রে একেবারেই উল্টো ভারত। কারণ, তাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে মোদি প্রশাসন।
অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সামরিক অস্ত্রের মূল জোগানদাতা রাশিয়া। আবার পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় চীনের অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা আগের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর। সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে সেই সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। এ অবস্থায় চীন-রাশিয়াকে চাপে ফেলতে জি-সেভেন জোটের এমন চাল কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়।
চীনের অদম্য গতির রশিকে টেনে ধরতে যখন হিরোশিমায় ছক কষেন বাইডেন মিত্ররা, তখন জিয়ান শহরে সেন্ট্রাল এশিয়ার ৫টি দেশকে নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে সম্মেলনে জি-সেভেন জোটকে একহাত নেন শি জিনপিং। বলেন, চীনের অগ্রগতি রুখতে পশ্চিমা দেশগুলো যে ষড়যন্ত্র করছে, বিশ্বে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।