ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটিতে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (মোয়াব) বোমা ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই বোমা ব্যবহার করে ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, মোয়াব মূলত বিশাল এলাকাজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো ও পরমাণু স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য তৈরি। তবে ভূগর্ভের গভীরে আঘাত হানার জন্য এটি বিশেষভাবে নকশা করা হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও গ্রীষ্মকাল থেকে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে।
এদিকে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রতি অসন্তোষ এবং এর কারণে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন এই বোমার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন সামরিক তৎপরতার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে মন্তব্য চেয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের অবস্থান ও স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো মোয়াব বোমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সে সময় সুড়ঙ্গ ও বাংকারের জটিল নেটওয়ার্কে হামলায় ৯০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।