মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
Title :
পাঁচ ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি শেষ ২৭ মে জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় ভাঙচুর সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউই সবার আগে নেবে: হাসনাত পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সহিংসতায় ৯০ জন নিহত, জবাবদিহি চান স্বজনরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী আচরণ না করার আহ্বান রিজভীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও বিশ্বজয়ে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএমএফের নতুন ঋণ চুক্তি নিয়ে আশাবাদী সরকার: অর্থমন্ত্রী আদালতের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরলেন আশ্রয়হীন সেই মা ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে মুসলিম দেশের ক্রুদের নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স

আদালতের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরলেন আশ্রয়হীন সেই মা

  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

পাবনার সাঁথিয়ায় ছেলের কাছে আশ্রয় না পাওয়া মুন্নি খাতুন অবশেষে আদালতের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরেছেন। একই সঙ্গে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিয়েছেন গ্রামপুলিশ ছেলে সাগর হোসেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনের বয়স ৫০ বছর। তাঁকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সাগর হোসেন (৩০)। ছেলের কাছ থেকে আশ্রয় ও ভরণপোষণ পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থাকার আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুন্নি খাতুন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ওই অভিযোগের শুনানি করেন সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ। এ সময় তিনি মুন্নি খাতুন ও তাঁর ছেলে সাগর হোসেনের বক্তব্য শোনেন। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাগরকে মায়ের সঙ্গে থেকে তাঁর দেখাশোনা করার জন্য বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন ইউএনও। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাটির সমাধান করতেও তাঁকে অনুরোধ জানান।

তবে মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন সাগর। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, “মাকে আমার সাথে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সাথে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।”

সাঁথিয়া ইউএনওর কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও গত ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসে পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের। পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সাঁথিয়া থানার ওসিকে অভিযুক্ত ছেলে ও তাঁর মাকে নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে গাড়িতে করে মা ও ছেলেকে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর বিচারক দুজনের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করে দেন। বিচারকের মধ্যস্থতায় সাগর হোসেন মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চান তিনি। ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ আর করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন সাগর।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুন্নি খাতুন বলেন, “আমি এখন খুব খুশি। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পারছে, আমাকে ঘরে তুলে নিছে, তার কাছে রাখবে। এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।”

ছেলে সাগর হোসেন বলেন, “আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাকে অসম্মান করেছিলাম। এটা আমার ঠিক হয়নি। বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। বাকি জীবন মাকে সাথে নিয়েই বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category