যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ ভোগ করার পর মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। চলমান যুদ্ধের অবসান এবং পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই তার পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর বার্তা এলো।
মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ‘সাহসী যোদ্ধা ও প্রহরীদের’ হাতে শত্রুপক্ষ ‘মারাত্মক ও বেদনাদায়ক আঘাত’ পাওয়ার পর আরব সাগরের সীমানা অতিক্রম করার সাহস দেখাচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শত্রুপক্ষ যখনই এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখনই তারা নিজেদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আর খুব বেশি সময়ের অপেক্ষা নেই- আরব সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবে।
আরব উপদ্বীপ থেকে পূর্বদিকে ভারতের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত আরব সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ ইরানের উপকূল এবং সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বও ব্যাপক। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনও ইরানের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা আরও বেড়েছে।