দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতার কারণে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি আরও বেড়েছে।
এদিকে ২ নম্বর ইউনিটের ত্রুটি সমাধানে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে এসে পৌঁছাননি।
ফলে কবে নাগাদ কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কেন্দ্রটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে ৩০ বারের বেশি কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
২০১০ সালে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়।
চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। এই কোম্পানির অধীনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায়। পরে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
পর্যাপ্ত কয়লার মজুত থাকার পরও অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতার কারণে ২ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
তবে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কখনোই তার পূর্ণ ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।