বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
Title :
ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, নৌ-অবরোধ বহাল: ট্রাম্প ‘তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে’ ইরানের বিরুদ্ধে আমিরাতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান তেহরানের হামে মৃত শিশুদের ৮২ শতাংশেরই ছিল বুকের দুধের ঘাটতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু বিএনপি সরকারের ছয় মাসে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা বেশি: গোলাম পরওয়ার ট্রাম্প-আমিরাত প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনা তালায় ১১৭০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন ইজ্জত উল্লাহ চা-শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০ হাজার রেইনকোট দিচ্ছে সরকার বিজিবির অভিযানে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ, মিলেছে অস্ত্র-বিস্ফোরক

হামে মৃত শিশুদের ৮২ শতাংশেরই ছিল বুকের দুধের ঘাটতি

  • Update Time : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ Time View
mibtelevision

হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন শিশুদের বড় একটি অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণার মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।

টিকাদানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বয়স ও টিকা গ্রহণের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। এতে দেখা যায়, টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন নয় মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, টিকা নেওয়ার বয়স হলেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ ফলাফলকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যে দুই ডোজ টিকা নেওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ গবেষণাটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্টসংখ্যক সন্দেহভাজন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত হয়েছে। টিকা নেওয়ার পরও কেউ আক্রান্ত হলে এর পেছনে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে শনাক্ত হওয়া সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার বলে জানা গেছে। এই উপশাখার ভাইরাস বিশ্বের অন্যান্য দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের নির্দিষ্ট অংশে চারটি পরিবর্তন বা জিনগত রূপান্তর শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।

ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category