মালয়েশিয়ায় দুই দিনব্যাপী ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১ হাজার ৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান ‘অপ সাসার’ নামে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করা হয়।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযান চলাকালে ৩ হাজার ৩০৭ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা ও তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও পাস না থাকা, নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থানসহ অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৪৩ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৩২৮ জন ও মিয়ানমারের ১৮৩ জনসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। আটকদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সুতেরামাস অ্যাপার্টমেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ইমিগ্রেশন প্রধান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই আবাসন কেন্দ্রগুলোতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময় অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে বাড়ির মালিকসহ ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬টি অভিযান চলছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩১ হাজারেরও বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকার ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এখনো বহাল রয়েছে। তবে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।