দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে ও গ্যাসের নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আগামী ১২ বছরে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এ ছাড়া বাকি তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে ৬ কার্গো এলএনজি।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৫০ ডলারে দুই কার্গো এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে জেকেএম সূচকের সঙ্গে ০.৫৪ ডলার যোগ করে দর ঠিক করে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে। পাশাপাশি হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪.৯৫ ডলার মূল্যে দুই কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে।
অন্যদিকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো ও ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকেএম সূচকের সাথে ০.০৮৭৫ ডলার যোগ করে কেনা হবে। এছাড়া ২০২৮ সালে অতিরিক্ত আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনা হবে, যার মূল্য ১২১% এইচএইচ সূচকের সাথে ৫.২০ ডলার যোগ করে নির্ধারিত হবে।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।