বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারতেও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেখানে নির্বাচন নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ উঠলেও ফলাফল ঘোষণার পর সবাই তা মেনে নেয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি ও অধিকার যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, সরকার ও বিরোধী দলকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভাষা, শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাসের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বক্তব্যে অসতর্কতা থাকলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যত আইনই করা হোক না কেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এসব উদ্যোগ কার্যকর হবে না।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর সাম্প্রতিক সময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেক নেতা-কর্মীকে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে দলের ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে কোনো ‘রংবাজ’ বা ‘মাসলম্যান’ বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙলে কিংবা বিরোধী দলকে প্রতিহত করলে তাদের প্রশংসা করা হতো। কিন্তু এবার বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান, সন্ত্রাস বা দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ছাড় দেয়নি। একটি দল যখন নিজেদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, তখন সেই দল সঠিক পথে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের তীব্র সমালোচনা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী এবং ভবিষ্যতমুখী। এতে গণতন্ত্রের পথচলা আরও মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আগে নিজেদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে পরে অন্যের দিকে তাকানো জরুরি। একতরফাভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে উভয় পক্ষের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’