সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
Title :
একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী: মহেশখালী, বাঁশখালী ও হাঠহাজারী সফর হাইমচরে প্রাইভেটকারে ২০ কেজি গাঁজা, চালক আটক সীমালঙ্ঘন নয়, গতি কমিয়ে জনগণের পাশে থাকুন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ বিরোধী দল হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: জুবাইদা রহমান শেখ হাসিনার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করা হয়েছিল পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার ফাঁদে পড়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরামর্শ মার্কিন সেনাপ্রধানের

মেসিকে হত্যার ছক, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • Update Time : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ Time View

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশের নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও বোমা নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে মেসিসহ একাধিক তারকা ফুটবলার হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও।

ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) এবং এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড় ও ম্যাচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হুমকির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। স্পেনের সংবাদপত্র ইনফরমাসিওন ডট ইএস ওই নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেজিয়ে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারেরও বেশি হুমকি পেয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে ফ্রান্সে থাকা তার পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হয়েছে।

জুলাইয়ের ৭ তারিখ আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি লিখেছিল, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’

মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটে ডালাস বিমানবন্দরে। এক ব্যক্তি ফোন করে পুলিশকে জানায়, সে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাড়িতে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে।

ওই ব্যক্তি দাবি করেছিল, তারা ‘দুই দলের পুলিশ ও খেলোয়াড়দের’ ওপর হামলা চালাতে চায়। তবে তার বক্তব্যে বিশেষভাবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

আরেকটি ঘটনায় খেলা চলাকালে এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করে, স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে সে ‘তিনটি বোমা’ রেখে এসেছে। খবর পাওয়ার পর বোমা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের প্রশিক্ষকদের নিয়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন মেসি।

মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী কর্তৃপক্ষকে জানান, এক ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি’ রোনালদোর হোটেলে থাকার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছিল।

এর দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং রোনালদোর হোটেল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

টরন্টোতেও রোনালদোকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এক সমর্থক রোনালদোর সঙ্গে লিফটে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিল, সে শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিল।

মিয়ামিতেও এক ব্যক্তি রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ ছাড়া পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ চলাকালে রোনালদোর জার্সি পরা এক ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েন।

বিশ্বকাপের সময় হুমকির শিকার হন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও। ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়কে অনলাইনে ‘জাতিবিদ্বেষী’ বক্তব্যের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপের ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি পুতুল ‘পুড়িয়ে দেখানো’ হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে তারকা খেলোয়াড়দের ঘিরে এমন ধারাবাহিক হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category