শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
Title :

প্রতিশোধ নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ Time View

আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গেল ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব? সেই ক্ষমতা আমার আছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমার মা আমাকে বলতেন-প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। আমার ছোট ভাইকেও একই প্রশ্ন করলে সে-ও মায়ের মতোই একই উত্তর দিতো।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যের পর নিজের পরিবার ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মতান্ত্রিক বিচারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে আমরা যেন কোনো অবিচার না করি। স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, আমরা যেন সেই পথ অনুসরণ না করি।

শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, যে শহীদ হয়েছে, সে যদি ওপর থেকে দেখে যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারো ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেওয়া হবে।

দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যে অর্জন এসেছে তা কোনো একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের। জুলাইয়ে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের ব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category