সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু চলতি অর্থবছরেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৬ Time View

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এ প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করছেন। নদীভাঙনে অনেকেই বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষের উপকারে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চীন কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করেছে বিশেষজ্ঞ দল।

তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীতে পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে খাল পুনঃখননের বিকল্প নেই।

মন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, গত চার মাসে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না, বরং সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে। নিজের নির্বাচনী এলাকার এক উপকারভোগীর উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ওই নারী মাসিক আড়াই হাজার টাকার সহায়তার মধ্যে এক হাজার টাকা চিকিৎসা, এক হাজার টাকা সন্তানদের লেখাপড়ায় এবং বাকি ৫০০ টাকা সঞ্চয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এটি মানুষের ভবিষ্যৎমুখী চিন্তারই প্রতিফলন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর আজ একটি স্বাধীন সংসদে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category