শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো সাত সদস্যের ‍‍‘কিচেন কেবিনেট‍‍’: সাবেক উপদেষ্টা

  • Update Time : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ১৫৫ Time View

সাত সদস্যের একটি বিশেষ ‘কিচেন কেবিনেট’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো বলে দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, এই বিশেষ গোষ্ঠীটি প্রতি মঙ্গলবার গোপনে বৈঠকে বসতো। এছাড়া নিজের মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার অনধিকার চর্চার কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তৌহিদ হোসেন, সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে বাধ্য হয়ে যথেষ্ট মূল্যায়ন করতে হতো, কারণ সরকারের উচ্চপর্যায়ে তাদের কথার বেশ প্রভাব ছিল। আমি তিনবার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলাম; কিন্তু তারা অনুরোধ করে জানান যে এটি সরকারের জন্য চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বীকার করেন, সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশার একটি বড় অংশই অপূর্ণ থেকে গেছে। কিচেন কেবিনেটের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি, কোনো একটি বিশেষ প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত তাদের একটি বৈঠকে আমাকে অংশ নিতে হয়েছিল। পরে জানতে পারি, প্রতি মঙ্গলবার তারা নিয়মিত বসতেন। কয়েকজন মিলে আড়ালে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন- এমন গুঞ্জন আগে থেকেই শুনতাম। তবে নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য যে আস্ত একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, তা এর আগে আমার জানা ছিল না।

নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তার সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে জানান তিনি।

তৌহিদ হোসেন, এই চুক্তির ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না। পুরো বিষয়টি দেখভাল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। পর্দার আড়ালে হয়তো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল, যার ফলে চুক্তিটি করতে সরকার বাধ্য হয়েছিল। তবে কোনো বড় বাধ্যবাধকতা না থাকলে এই চুক্তি সইয়ের বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত হতো।

দায়িত্বে থাকার সময় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠালেও, সেটি যে আদতে কোনো কাজে আসবে না তা ভালো করেই জানা ছিল তৌহিদ হোসেনের। পাশাপাশি বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানান তিনি।

তৌহিদ হোসেনের মতে, আমি মনে করি না যে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব একটা দীর্ঘ নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে তারা আবার রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমার ধারণা, আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তারা অংশ নেবে।

তবে বর্তমান বিএনপি সরকার নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য বা মূল্যায়ন করতে রাজি নন সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতকে সমানতালে সামলে চলাই এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category