বাংলাদেশে অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাস ও কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে শিশুদের মধ্যে খাদ্যজনিত অসুস্থতা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
শনিবার রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপ কর্মসূচির উদ্বোধনী সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদনে অনিরাপদ পদ্ধতি ও মান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে এক কেজি কীটনাশক যথেষ্ট, সেখানে তিন কেজি পর্যন্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আমসহ বিভিন্ন ফল পাকতে দেরি করাতে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দূষণের কারণে ক্যানসারসহ বিভিন্ন খাদ্যজনিত রোগ বাড়ছে। এসব সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। একই সঙ্গে অনিরাপদ খাদ্যের কারণে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো এবং রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বাজার তদারকি জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। উপস্থিত ছিলেন খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তিনি খাদ্যে ভেজালকে “নীরব ঘাতক” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে নতুন চালু হওয়া ফেলোশিপ কর্মসূচিতে ৩২৩ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ২০ জন গবেষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা খাদ্য অণুজীববিজ্ঞান, টক্সিকোলজি, খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করবেন।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ফেলো বছরে ৮৪ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এছাড়া গবেষণা সহায়তায় ৫০ হাজার টাকা এবং তত্ত্বাবধায়ক সহায়তায় ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পুরো কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।