নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি প্রতিবেশী দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সোমবার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, এই পাঁচটি দেশের মাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আমির সাঈদ ইরাভানি তার পত্রে জানান, এই দেশগুলো তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। ১৯৭৪ সালের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন দেওয়া বা সামরিক সুবিধা প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ইরান দাবি করেছে, এই দেশগুলো আগ্রাসনকারীদের সামরিক সহযোগিতা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।
চিঠিতে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে যে, হামলার ফলে দেশটির যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার এই পাঁচটি দেশকে নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে এই ধরনের অন্যায্য ও উস্কানিমূলক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য দেশগুলোকে জোরালো আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে ইরানের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের এই অভিযোগ নিয়ে ইরান এর আগেও নিরাপত্তা পরিষদে তথ্য জমা দিয়েছিল বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।