শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

ইউরোপীয় পর্যটক হারিয়ে এখন চীন ও ভারতের দিকে ঝুঁকছে ইন্দোনেশিয়া: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা বালিতে

  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪৯ Time View

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালি এখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগকারী আন্তর্জাতিক বিমান রুটগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় বালির পর্যটন মানচিত্রে বড় ধরনের রদবদল ঘটছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় পর্যটকদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বালির পর্যটন শিল্প এখন টিকে থাকতে চীন ও ভারতের মতো বিশাল বাজারগুলোর দিকে তাদের পুরো নজর ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (PHRI)-এর বালি শাখার ডেপুটি চেয়ারম্যান আই গুস্তি আগুং রাই সূর্যউইজয়া গত শনিবার এক বিবৃতিতে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বালি অভিমুখে আসা অন্তত ১৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বালি গভর্নর ওয়ায়ান কোস্টার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের ফলে বালি প্রতিদিন গড়ে ৮০০ জন মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটক হারাচ্ছে। দুবাই ও কাতার যা ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য বালিতে আসার প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করে—সেখানকার বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপ থেকেও পর্যটক আসার প্রবাহ কমে গেছে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, ফ্লাইটের এই বিপর্যয়ের মধ্যেও বালির হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি রাতারাতি কমে যায়নি। PHRI-এর তথ্যমতে, অনেক পর্যটক যারা আগে থেকেই দ্বীপে ছিলেন, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে তারা বাড়ি ফিরতে পারেননি। ফলে তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাদের অবস্থানের সময়সীমা বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন, যা সাময়িকভাবে হোটেলগুলোর অকুপেন্সি রেট বা কক্ষ পূর্ণতার হার স্থিতিশীল রেখেছে

বালির প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বাদুং (Badung)-এ ৫২ শতাংশ হোটেলের কক্ষ পূর্ণতার হার ৪১ থেকে ৬৯ শতাংশের মধ্যে। ৩৬ শতাংশ হোটেলে এটি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। গিয়ানিয়ার (Gianyar)-এর প্রায় ৫৪ শতাংশ হোটেলে কক্ষ পূর্ণতার হার ৪১ থেকে ৬৯ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের অনিশ্চয়তাকে কাটিয়ে উঠতে বালি এখন নতুন বাজার হিসেবে চীন ও ভারতকে লক্ষ্য করে তাদের প্রচারণা বাড়াচ্ছে। বালির পর্যটন কর্মকর্তাদের মতে, বরাবরের মতো অস্ট্রেলিয়ার বাজার বালির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। বালির পর্যটন খাতের মতে, অস্ট্রেলীয়দের কাছে বালি তাদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’র মতো।

গত বছর (২০২৫) আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার পর চীন ছিল তৃতীয় বৃহত্তম পর্যটন উৎস। ভারত থেকেও পর্যটকের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

রাই সূর্যউইজয়া বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার এবং এটি অটুট থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন এবং ভারত আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।

পর্যটন স্থিতিশীল রাখতে বালি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এয়ারলাইনস এবং আন্তর্জাতিক ট্রাভেল এজেন্টদের সাথে সমন্বয় করে বিকল্প বিমান রুট খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে সূর্যউইজয়া সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের আগুন বালির সমুদ্রসৈকতে সরাসরি না পৌঁছালেও, এর উত্তাপ ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে ভালোভাবেই অনুভূত হচ্ছে। বালি এখন পশ্চিমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাচ্যের পর্যটন শক্তির মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মরিয়া।

এএন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category