নির্বাচন সামনে রেখে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি অশুভ রাজনৈতিক শক্তি সুপরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে।
সোমবার বেলা আড়াইটায় যশোর উপশহর কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন দুপুরে খুলনায় জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে যশোরে পৌঁছান তিনি।
জনসভায় তারেক রহমান নাম উল্লেখ না করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (জামায়াতে ইসলামী) শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক নারী-বিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি দলের নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। এখন যখন চারদিকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তখন বাঁচার পথ খুঁজতে তারা বলছে তাদের অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি; বরং এটি তাদের চিরাচরিত মিথ্যাচারের অংশ।
তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের সামনে নির্লজ্জভাবে মিথ্যা বলে এবং মানুষের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতে বিকাশ নম্বর দেয়, এটাই তাদের আসল চরিত্র। এদের ষড়যন্ত্রের কারণেই ১৯৭১ সালে আমাদের লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন। জনগণকে সাথে নিয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।
যশোরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে এক নতুন দিগন্তের কথা শোনান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যশোরের গদখালীর ফুল আজ সারা দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গার্মেন্টস পণ্যের মতো যশোরের ফুলকেও আমরা বিশ্ববাজারে রপ্তানি করার ব্যবস্থা করব। আমরা চাই আমাদের কৃষকের ঘাম জড়ানো পণ্য বিদেশে যাক এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করুক।
যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণ শক্ত করতে এদিন সাতটি জেলার ২২ জন প্রার্থীর হাত উঁচিয়ে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, এরা আপনাদের সেবক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে এদের জয়যুক্ত করুন, যাতে আমরা একটি জবাবদিহিমূলক সরকার উপহার দিতে পারি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ এবং খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। বক্তারা যশোরে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EPZ) প্রতিষ্ঠা এবং ভবদহ সমস্যা স্থায়ী সমাধানের দাবি তারেক রহমানের কাছে পেশ করেন।
তারেক রহমান উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আপনারা সজাগ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই নির্বাচনকে বিপথগামী করতে পারবে না।