সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
Title :
একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী: মহেশখালী, বাঁশখালী ও হাঠহাজারী সফর হাইমচরে প্রাইভেটকারে ২০ কেজি গাঁজা, চালক আটক সীমালঙ্ঘন নয়, গতি কমিয়ে জনগণের পাশে থাকুন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ বিরোধী দল হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: জুবাইদা রহমান শেখ হাসিনার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করা হয়েছিল পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার ফাঁদে পড়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরামর্শ মার্কিন সেনাপ্রধানের

অর্ধশত বাড়িতে আগুন: ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • Update Time : শনিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩১০ Time View

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অর্ধশত বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

এরআগে বুধবার সকালে উপজেলার ৪নং ঘোড়াঘাট উপজেলার খোদাদপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মিম ও রাকিব নামে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনার একদিন পর নিজ গ্রামে নিহতদের দাফন শেষে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িতে আগুন জালিয়ে দেয় গ্রামবাসী। চালানো হয় ভাঙচুর ও লুটপাট।

এদিকে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামে গিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ শতাধিত কম্বল বিতরণ করেছে পুলিশ।

এতে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং ঘোড়াঘাট থানার ওসি আবু হাসান কবির।

এছাড়াও এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সম্প্রতি ধরে রাখতে ৪নং ইউপির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভুট্টুকে প্রধান করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট সম্প্রতি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত মিমের বাবা। ঘটনায় দিনই পুলিশ ওমর আলী, তার স্ত্রী মোমেনা বেগম এবং তার ছেলে শামিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

আজাহার আলী নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আংতকে দিন কাটছে গ্রামবাসীর। একেত গ্রামে দুটি সন্তান হারানোর শোক। অপরদিকে মামলার আতংক। গ্রামের লোকজন বলছে, ঘটনার সাথে তারা জড়িত ছিলেন না। পাশ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

গ্রামটির স্থানীয় বাসিন্দা ফিজু মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের মারা যাওয়া দুজন যুবকের জানাযার নামাজে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন অংশ গ্রহণ করেছিলো। নামাজ শেষে তারাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় আমাদের গ্রামের কেও জড়িত ছিল না।

তারেকুজ্জামান নামে আরেকজন বলেন, আমরা তো সন্তান হারানোর শোকে শোকাহত। শোক নিয়ে আমরা কেন মানুষের বাড়িতে আগুন লাগাতে যাব। আমার মনে হয় কোন একটি চক্র হত্যার ঘটনার মোড় ঘুড়াতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

আগুণে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা উভয়পক্ষ দীর্ঘদিন থেকে শান্তিতে বসবাস করে আসছিল। তবে দুঃখজনক ইস্যুকে কেন্দ্র করে কারা আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিল, তাদেরকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থির দাবি জানাচ্ছি।

চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভুট্টু বলেন, সম্প্রতি কমিটিতে আমাকে প্রধান করা হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা করছি। আশা করছি সব কিছু আবার আগের মতই স্বাভাবিক হবে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, এলাকায় শান্তি বজায় আছে। আমরা এসপি স্যারের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং আমাদের সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদেরকে শনাক্তের চেষ্টা করছি।

তবে আমরা একটি কথা বলতে পারি যে, কোন নিরীহ লোক এই মামলায় ফাঁসবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category