সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনের দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন দল, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং নানা সামাজিক সংগঠন গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে বলেন, দেশের সব সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শনিবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে শহীদ ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয় গুলোতেও আয়োজন হবে বিশেষ প্রার্থনার।
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালগুলোতে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। এদিকে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি ওসমান হাদির শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাদির মৃত্যুসংবাদ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি হাদির মৃত্যর খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বৃহস্পতিবারই (১৮ ডিসেম্বর) প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের নেতা শরিফ ওসমান হাদি; গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর যাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তিনি মারা গেছেন।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চিকিৎসকদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হাদিকে বাঁচানো যায়নি।
ডয়চে ভেলেও হাদিকে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘোষণা দেয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। হাদি ভারতের একজন স্পষ্টভাষী সমালোচক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারী যুব আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও এ খবর প্রকাশ করেছে।
হাদির মৃত্যুর খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যর খবর আসার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই খবর দিয়েছে।
সিএনএ, আল আরাবিয়া, দ্য সান মালয়েশিয়াসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য গণমাধ্যমও ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর দিয়েছে।