আগামী ৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট। তবে তার আগেই ক্রিকেটারদের বকেয়া বেতন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কার্যালয়ে সিসিডিএমের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রিমিয়ার লিগের দলবদল ও লিগ শুরুর তারিখ ঠিক করা। তবে সভাতে সিদ্ধান্ত হলো এবারের লিগে থাকছে না কোনো বিদেশি ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটাররা যে লিগে থাকবে না তা আগে থেকেই জানা ছিল। তবে গতকাল সভায় সেটি আনুষ্ঠানিকতা পেলো মাত্র।
তবে সভা ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে অন্য আরেকটি বিষয়। লিগের চার ক্রিকেটারের গত বছরের পাওনা টাকা মেটানো হয়নি; এমনই অভিযোগ উঠেছে গতকাল। চার ক্লাব অগ্রণী ব্যাংক, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মোহামেডান ও রূপগঞ্জের কয়েকজন খেলোয়াড় গতকাল সভার আগে সিসিডিএমের প্রধান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বলেছেন, এটা ক্লাব ও খেলোয়াড়দের ব্যাপার। বিসিবি বড় জোর ক্লাবদের চাপ দিতে পারে। যে জায়গা থেকে যেটা করা দরকার, বিসিবি ও সিসিডিএম তা করছে। আমরা খেলোয়াড়দের সাহায্য করছি।
ক্লাবের খেলোয়াড়দের পাওনা আদায়ের জন্যও সিসিডিএম চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো কোনো ক্লাবের চুক্তিতেই সমস্যা আছে। যেমন- একটি ক্লাবের চুক্তিতে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য খেলোয়াড়দের টাকা কেটে রাখার শর্ত রাখা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এই ক্লাব ঠিক অবস্থানে আছে। পারফরম্যান্স ভালো না হলে ক্লাব টাকা কাটতেই পারে। তবে খেলোয়াড়দের ওরকম চুক্তি সই করা ঠিক হয়নি। এ রকম একটা ফরম্যাট একসময় বিসিবি দিয়েছিল। কিন্তু ক্লাব, খেলোয়াড় কেউই এটা ফলো করে না।
বিদেশি খেলোয়াড়দেরও বাদ দেয়ার ব্যাপারে ক্লাবগুলো পজিটিভ। প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের বেশির ভাগ এটাই চায়। বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে টাকা খরচ না করে সেই টাকাটা দেশি খেলোয়াড়দের পেছনে খরচ করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়ার লিগের দলবদল হবে। ৬ মার্চ ট্রফি উম্মোচন; তার তিন দিন পর ৯ মার্চ থেকে শুরু হবে লিগ। খেলা অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম, ফতুল্লা এবং বিকেএসপির দুটি মাঠে। তবে শেরে বাংলা স্টেডিয়াম সব সময় পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে টাকার অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে। লিগের সেরা খেলোয়াড়, সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারের পুরস্কার দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটের রেজিস্ট্রেশন ফি এক লাফে পাঁচ লাখ টাকা করায় দলের সংখ্যা কমে গিয়েছিল অনেক। তবে সিসিডিএম থেকে এই ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।