বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের এক দফা দাবিতে আজ শনিবার ঢাকায় মহাসমাবেশ করছে বিএনপি। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা প্রায় ৩৭টি দলও সমাবেশ করছে ঢাকায়। একই দিনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে চাপ কম থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা পড়েছেন বিপাকে। অফিস ছুটি না থাকায় যানবাহন সংকটের মধ্যেই অফিসে ছুটতে হচ্ছে তাদের।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
তল্লাশি ছাড়া সাইনবোর্ড এলাকা দিয়ে ঢাকায় যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।। রাজধানীর শনির আখড়ায় লোকাল বাসের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। তবে অফিসগামী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নতুনবাজারগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামসুল আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, আমি তো প্রতিদিন সকালেই অফিসে যাই। আজ তো এখন পর্যন্ত কোনো গাড়ি দেখছি না। এখন তো কিছুটা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছেই। দুই দলের সমাবেশের জন্য এমনি আতঙ্ক, তারমধ্যে আবার অফিস খোলা। এখন যতো সমস্যাই হোক অফিসে যেহেতু চলছে যেতে তো হবেই।
ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ি ও সায়দাবাদ মোড় অনেকটা যানবাহনশূন্য দেখা গেছে। সকাল থেকেই এই সড়কগুলোতে নেই প্রতিদিনের মতো যানবাহনের আনাগোনা। সাধারণত দূরপাল্লার বাসগুলো এখানে চলাচল করে, তবে আজ নেই বাড়তি চাপ।
গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, প্রেসক্লাব এলাকায়ও নেই তেমন যানবাহন। গুলিস্তানে কিছু লোকাল বাস থাকলেও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অপরদিকে, গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো পার্কিং করে রাখা হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে জিপিও মোড় পর্যন্ত যানবাহন নেই বললেই চলে। অনেকটা একই অবস্থা পুরানা পল্টন মোড়ের।
পুরান ঢাকায় রায়সাহেব বাজার বাজারে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক। তবে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম। শ্রমিক দিনমজুর উপস্থিতি বেশি। মোড়ে মোড়ে পুলিশের অবস্থান। বাবু বাজারে চেক পোস্ট বসিয়ে পুলিশের তল্লাশি চলছে।
শাহবাগ, সাইন্সল্যাবে প্রতিদিন সকালে অনেকটা জটলা থাকলেও আজ একেবারেই ভিন্ন দৃশ্য। যেকোনো পরিবহন অনায়াসেই কোন ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই পার হতে পারছেন সবগুলো রাস্তা। মৎস্য ভবনের মোড়টিতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।
কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাকে যানবাহন চলাচল একেবারেই কম দেখা গেছে। এসব এলাকায় অফিসগামী মানুষ সেভাবে দেখা যায়নি, তবে বিএনপি কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত এসব এলাকা।
মালিবাগ থেকে কোনো ধরনের জটলা ছাড়াই দ্রুত গতিতে যাওয়া যাচ্ছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত। মাঝপথে রামপুরায় রাইদাসহ কয়েকটি পরিবহন চলাচল করলেও তা আটকে দিতে দেখা গেছে। ফলে অনেক যাত্রীকে হতাশ হয়ে নেমে যেতে হচ্ছে গাড়ি থেকে।