সাগরে ভাসছে দুটি নৌকা, সংকটাপন্ন ৪০০ রোহিঙ্গার জীবন
Update Time :
মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
৮৬
Time View
নৌকা দুটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলেছে, এখনই উদ্ধার করা না গেলে নৌকা দুটি ডুবে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদেরও বাঁচানো সম্ভব হবে না। খাদ্য ও পানির অভাবে তারা মারা যাবে।
নৌকা দুটি কবে কোথা থেকে এসেছে তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌকা দুটি বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করে এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে সাগরে ভাসছে। চলতি সপ্তাহে নৌকা দুটির খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) নৌকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির ব্যাংককভিত্তিক আঞ্চলিক মুখপাত্র বাবর বালোচ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক মহল উদ্ধার তৎপরতা না চালালে সাগরে ভাসমান ওই রোহিঙ্গারা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়বে।
বালোচ আরও বলেন, ‘নৌকা দুটি শিশু, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা রয়েছে। বাঁচতে মরিয়া এই মানুষগুলোর উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তারা এখন তাদের নিজ চোখে মৃত্যুকে দেখতে পাচ্ছে।’
দুটি নৌকার একটির কাপ্তানের সঙ্গে গত শনিবার (২ ডিসেম্বর) যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় এপি। তখন ওই কাপ্তান জানিয়েছিলেন, তার নৌকায় ১৮০ থেকে ১৯০ জন আরোহী আছে।
কিন্তু তাদের কাছে কোনো খাবার বা পানি অবশিষ্ট নেই। এর মধ্যে আবার ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে গেছে। মান নকিম নামের ওই কাপ্তান দাবি করেছেন, কোনো সাহায্য না পেলে নৌকায় থাকা সবাই মারা যাবে।
পরদিন গত রোববার (৩ ডিসেম্বর) নকিম জানান, তার নৌকাটি থাইল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এরপর সোমবার (৪ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাহিনীটির মুখপাত্র জানান, ওই নৌকাটির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
ইউএনএইচসিআর-এর আঞ্চলিক মুখপাত্র বাবর বালোচ জানিয়েছেন, অন্য নৌকাটিও ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় সমান দূরত্বে অবস্থান করছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন গ্যাংয়ের অত্যাচারে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়।
গত মাসে সাগরপথে ইন্দোনেশিয়া পৌঁছায় প্রায় ৬০০ রোহিঙ্গা। যার মধ্যে দুই শতাধিক শরণার্থীবাহী একটি নৌকা তীরে ভিড়তে না দিয়ে আবারও সমুদ্রে ঠেলে দেয় গ্রামবাসীরা।