আগের ম্যাচে যেখানে ৩৩৪ রান করতে পেরেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, সেখানে এই ম্যাচে আড়াইশ রানও হলো না! বাংলাদেশের ব্যাটিংকে তাই বর্ষার আকাশের সঙ্গে তুলনা করাই যায়। যেটা নিয়ে আগাম কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে যদি ‘মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল’ বলা হয়, তাহলে বাংলাদেশ দলকে এর চেয়ে কম কিছু বলার সুযোগ নেই।
পাকিস্তানি বোলিং শক্তিশালী। কিন্তু লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম যখন রানউৎসবের মাঠ, সেখানে মাত্র ১৯৩ রান! দৃষ্টিকটুই বটে। তাও বাংলাদেশ খেলেছে কেবল ৩৮.৪ ওভার। ১১.২ ওভার পুরোপুরি বাকি। একে লজ্জাজনক পরাজয় বলা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।
কেন এমন হলো? এই পরাজয়ের পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মানসিকতাই বা কী? ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের বাজের ব্যাটিংয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী টেলিভিশন সঞ্চালকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাকিবের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমরা কিছু বাজে শট খেলেছি। এমন উইকেটে ১০ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারানো মোটেই ঠিক হয়নি। এ রকম উইকেটে এটা খুবই বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী।’
১০ম ওভারে ৪৭ রানে পড়ে গিয়েছিলোন ৪টি উইকেট। এরপরই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলো টাইগাররা। বিশেষ করে দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। তাদের দু’জনের ১২০ বলে ১০০ রানের জুটি আশা জাগালেও উইকেটে সেট হওয়ার পর তারা ইনিংসটাকে বেশিদূর টানতে পারেননি।
সাকিব-মুশফিকের জুটি ভেঙে যাওয়ার পরই আবার ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। সাকিব নিজেই এই দায় নিলেন, ‘আরও ৭-৮ ওভার থাকা দরকার ছিল, আমাদের জুটিটা আরও কিছুক্ষণ থাকলে লড়াই করার মতো স্কোর পাওয়া যেত। কিন্তু আমি আউট হওয়ার পর আর কোনো জুটিই হলো না।’
নিজেদের বোলিংটা ভালোই হচ্ছে উল্লেখ করেন সাকিব; কিন্তু বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে বোলিং যে ভালো হচ্ছে সেটা চোখে পড়ছে না। সাকিব বলেন, ‘ওদের দলে তিন পেসার আছে, যারা কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছে ওদের জন্য। আমরাও বোলিং বিভাগে বেশ ভালো করছি। কিন্তু আমাদের ব্যাটিংটা কখনো ভালো হয়, কখনো খারাপ। পাকিস্তানের মতো আমাদের বোলাররাও কয়েক বছর ধরে ভালো বোলিং করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন উইকেটে যদি ব্যাটসম্যানরা ভুল না করে, আপনি উইকেট পাবেন না।’