সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

  • Update Time : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ Time View

বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার ঢাকায় নবনিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-চারলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টাকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন ধারায় নিতে তার দেশের প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি দুদেশের মধ্যে বিশেষ করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বার্থের সঙ্গতি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখে দাঁড়িয়ে, যখন দেশ ইতিহাস সৃষ্টিকারী জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এটি ফ্রান্স ও বাংলাদেশের জন্য আমাদের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নেওয়া এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সময়।

তিনি আরও জানান, এ মাসের শুরুর দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশের প্রতি ফ্রান্সের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের প্রায় ১৫ লাখ নাগরিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বসবাস করছে, যা ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ।

তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল খোলা এবং স্বাধীন চলাচলের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত। ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে আরও কার্যকর সম্পর্কের জন্য বড় সম্ভাবনা দেখছে।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনায় ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারবে।

তিনি কিছু ইউরোপীয় দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে নির্বাচনকালীন পরিকল্পিত ভুল তথ্য প্রচার এবং সামাজিক বিভাজনের প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-চারলে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশকে সবচেয়ে কম উন্নয়নশীল দেশের (এলডিসি) অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ফ্রান্স প্রস্তুত বলে জানান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সের এ প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং দেশটিকে ‘বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধনী উদ্যোগ ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আপনার নিয়োগের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।

তিনি ফ্রান্সের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন—যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু কার্যক্রম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে অবদান রেখেছে।

ড. ইউনূস তার দীর্ঘদিনের ফ্রান্স সফর এবং ফরাসি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন, যা তিনি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের আগে গড়ে তুলেছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category