জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসঘটিত এই রোগটি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।ইনফ্লুয়েঞ্জা মূলত একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের অসুখ যা সাধারণ সর্দির চেয়ে বেশি গুরুতর। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বছরের যেকোনো সময়ই ইনফ্লুয়েঞ্জা হতে পারে। তবে শীতকালে এর প্রকোপ বাড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাপানজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হারও বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগটি নিয়ে এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করেছে।
জাপানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গত দশ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস ডিজিজেস ও অন্যান্য স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে নতুন করে প্রায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
আগের সপ্তাহের চেয়ে এই সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার বেশি। গড়ে প্রতিটি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৭২ জন। যা সাধারণ ‘ওয়ার্নিং লেভেল’ থেকে প্রায় ৪ জন বেশি। হাসপাতাল প্রতি ৩০ জন রোগী ভর্তি হলে তাকে ‘ওয়ার্নিং লেভেল’ বলে ধরা হয়।ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফেকশাস ডিজিজেসের তথ্য মতে, জাপানের ৪৭ প্রিফেকচার তথা রাজ্যের ৩৩টিতেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। দেশজুড়ে এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার। আর গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছুঁয়েছে।