বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তর ভারতে যেন প্রলয় হচ্ছে। হিমাচল, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লিতে অত্যধিক ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। প্রাণ গেছে বহু মানুষের। এরই মাঝে হরিয়ানার হাথনিকুণ্ড বাঁধ থেকে পানি ছাড়া হয়েছে। যার ফলে যমুনার পানির স্তর বিপৎসীমা থেকে তিন মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। বহু এলাকা ডুবে গেছে। বহু রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যান চলাচলের জন্য।
ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যমুনার পানিসীমা ২০৭ দশমিক ৪৯ মিটার ছিল। যখন থেকে যমুনার পানিসীমা মাপার কাজ শুরু হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, ততদিনে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ। তবে বুধবার রাত ১১টার সময় যমুনার পানিসীমা ২০৮ দশমিক ০৮ মিটার ছুঁয়ে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২০৮ দশমিক ৪১ মিটার। ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে এটাই সর্বোচ্চ পানিসীমা। বিপৎসীমা থেকে ৩ মিটার ওপর দিয়ে বইছে যমুনা।
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হিমাচল প্রদেশে চার-পাঁচ দিন ধরে টানা ভারি বৃষ্টি হতে থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সেখান থেকে পানি নেমে এসে হাতিনিকুণ্ড ব্যারেজ উপচে পড়ছে।
দিল্লির সবচেয়ে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর অন্যতম পুরাতন দিল্লি। এখানকার নিগমবোধ ঘাট শশ্মান ব্যবহার না করার জন্য বাসিন্দাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নগরীর বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার জন্য জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর ১২টি টিম কাজ করছে।
গত দুই দিনে দিল্লিতে ভারি বৃষ্টি না হলেও যমুনা নদীতে হরিয়ানার পানি ছাড়ার কারণে রাজধানীর নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডুবে যাওয়ার পর অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এ পর্যন্ত দিল্লির নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকাগুলোর কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।