কিশোরগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জন্য প্রস্তুত দেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঈদগাহে এবার অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ৯টায়। এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শোলাকিয়ায় জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এবং বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ.ইউ কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা যোবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। ঈদ জামাতে জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া আর কিছু সঙ্গে না আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জামাতের জন্য ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১৯৯তম পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সবাইকে যথাসময়ে মাঠে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, এবার ঈদগাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখবে জেলা শহরসহ ঈদগাহ মাঠ।
এদিকে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ লাইনে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
জানা যায়, সুদূর ইয়েমেন থেকে ইসলামের ঐশী বাণী নিয়ে হযরত শাহ সৈয়দ সফি আহমেদ (রহ.) কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে আগমনের পর ১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন। তখন তাঁর আধ্যাত্মিকতায় আকৃষ্ট হয়ে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি ওই জামাতে অংশগ্রহণ করেন। সেই থেকে ‘সোয়া লাখ’ সংখ্যাবাচক শব্দ থেকে ‘সোয়ালাখিয়া’ নামটি প্রাধান্য পায়। শব্দের বিবর্তনে ‘সোয়ালাখিয়া’ থেকে ‘শোলাকিয়া’ নাম ধারণ করে।