মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গৃহবধূ রাজনা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাজনা বেগমের স্বামী মো. আনোয়ার মিয়া (৪৫) এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী তামান্না বেগম ওরফে হাবিবা।
পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে কমলগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার (মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৯ মে ২০২৬) ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। কমলগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রুহুল আমীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রাজনা বেগমের সাথে আনোয়ার মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে চার কন্যাসন্তান রয়েছে। রাজনা বেগমের ভাই ও মামলার বাদী মো. মুক্তার মিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিন মাস আগে আনোয়ার মিয়া তামান্না বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে এলে সেই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ মে বিকেলে জগন্নাথপুরে স্বামীর বাড়িতে রাজনা বেগমের সাথে আনোয়ার ও তামান্না বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজনা বেগম বিষপান করলে তাঁকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রাজনা বেগমের ভাই বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় আনোয়ার মিয়া ও তামান্না বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।