বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে তিনটি দেশের সঙ্গে সরকার চুক্তি সই করেছে। সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সরকারপ্রধানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
মুখপাত্র মাহদী আমিন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতে বড় পরিবর্তন আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত একটি ইকোনমিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে চালু করা হয়েছে দ্রুতগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা। পাশাপাশি যুবসমাজের মেধা ও ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের জন্য ‘স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র, এই খাতে সরকার অত্যন্ত দ্রুত ও মানবিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে হামের টিকা আমদানি করে দেশের প্রায় শতভাগ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও, কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
সরকার গঠনের পর এত অল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটি সরকারের কর্মদক্ষতা, গতিশীলতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাহদী আমিন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি মন্ত্রিসভা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত (প্রায় ৬২ শতাংশ) ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৩টি বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশে বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটেছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারা বজায় রেখে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কাজের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তবে এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার অপব্যবহার হচ্ছে দাবি করে মাহদী আমিন, একটি নির্দিষ্ট মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে এবং নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদসহ রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অশালীন আচরণ ও কুৎসা রটানোর মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি, বর্তমান প্রশাসন একদিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ আন্তরিক। গত ১০০ দিনের সহনশীলতা ও উদারতার নীতিতেই তার প্রমাণ মেলে। তবে বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে অপপ্রচার বা বিদ্বেষ ছড়ানোর যে রাজনীতি, তা গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন এবং শাহদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ আরও অনেকে।