বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, বর্তমান সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে তা জাতির জন্য গভীর হাতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
শুক্রবার সকালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টরাল সিস্টেমস’ (আইএফইএস) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল আলম খান মিলন জানান, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংগঠনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় সংসদকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আইএফইএস প্রতিনিধিরা সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপায় এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান জানতে চেয়েছেন।
মিলন উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আগের যেকোনো সংসদের তুলনায় আলাদা, কারণ এটি ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত হয়েছে। ফলে এই সংসদকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
একটি আদর্শ ও কার্যকর সংসদের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সমান গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সরকারি দলের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে (রুলস অব প্রসিডিউর) প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে এবং আইএফইএস প্রতিনিধিরাও সংসদ শক্তিশালীকরণে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
সবশেষে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বর্তমান সংসদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন। তবে শুরু থেকেই সরকারি দলের কার্যক্রমে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা জুলাই সনদের জন্য গঠিত সংস্কার পরিষদে শপথ নেননি এবং ইতিমধ্যে সনদের মূল চেতনার বাইরে ভিন্নধর্মী কিছু প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।