মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
Title :
প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা, ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ড সরকারের ১৮০ দিনে ‘অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা’ দেখেছে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম অক্টোবরে আন্তর্জাতিক রূপে উদ্বোধন কক্সবাজার বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: আদালতে দুই তরুণের স্বীকারোক্তি গাজায় জায়গা না-পেয়ে, দাদার কবরে বাবাকে দাফন করলেন ছেলে নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস রংপুরে তালাবদ্ধ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার সন্ত্রাস ও মাদক দমনে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেসির গোলেও কাটল না মায়ামির জয়খরা

গাজায় জায়গা না-পেয়ে, দাদার কবরে বাবাকে দাফন করলেন ছেলে

  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ Time View

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত বাবাকে দাফন করতে গিয়ে কবরের জায়গা পাননি ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজের দাদার কবরে বাবাকে দাফন করেছেন তিনি।

ওমরের বাবা মোহাম্মদ আল-সাওহি (৪০) গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ জুন ইয়েলো লাইনের কাছে একটি ফুটপাতের দোকানে চা ও কফি বিক্রি করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। আচমকা একটি গুলি তাঁর ঘাড়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

বাবার মরদেহ নিয়ে ওমর জায়তুন কবরস্থানে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কবরস্থানটি মরদেহে প্রায় পূর্ণ। নতুন করে দাফনের মতো কোনো জায়গা ফাঁকা নেই। যুদ্ধের কারণে কবরস্থানজুড়ে কবরের পর কবর তৈরি হয়েছে।

ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে শুধু কবর আর বালুর স্তূপ দেখতে পেয়েছেন তিনি। বালুর নিচেই দাফন করা হয়েছে অসংখ্য মানুষের মরদেহ।

যুদ্ধের আগে একটি কবর যেভাবে প্রস্তুত করা হতো, এখন সেই ব্যবস্থাও নেই। জায়গা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটে অনেক কবর শুধু পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় লেখা কাগজও অনেক ক্ষেত্রে পাথরের সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কবর তৈরির খরচও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি কবর প্রস্তুত করতে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার শেকেল পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে স্বজনদের জন্য আলাদা কবরের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওমরের পরিবারও সেই সংকটের মুখে পড়ে। নতুন কবরের জায়গা না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হন তিনি।

যুদ্ধের কারণে গাজার বহু পরিবারকে স্বজনদের মরদেহ বাড়ির আঙিনা, তাঁবুর পাশে, উদ্বাস্তু শিবিরের মাঠ, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে দাফন করতে হয়েছে। অনেক মরদেহ এখনো শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। একই সময়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জন্য কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত অনেক জায়গাও ব্যবহার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই যুদ্ধের আগেই প্রায় পূর্ণ ছিল। যুদ্ধের পর নতুন করে হাজার হাজার মরদেহ দাফন করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। নতুন কবরস্থান তৈরির জন্য জায়গা খোঁজার পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো নিয়ম মেনে কবরস্থানে স্থানান্তরের কাজও চলছে।

খান ইউনিসের একটি কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করেন তাফেশ আবু হাতাব। তাঁর মতে, কর্মজীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তিনি কখনো দেখেননি। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর খুঁড়তে হয়েছে।

 

তিনি জানান, যাঁদের জন্য কবর খুঁড়েছেন তাঁদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। অনেক সময় একই পরিবারের একাধিক সদস্য, এমনকি পুরো পরিবারকেও একই সঙ্গে দাফন করতে হয়েছে।

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বিপুল প্রাণহানি, কবরস্থান ধ্বংস এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটে এখন স্বজনদের দাফনের জায়গা পাওয়াও বহু পরিবারের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category