আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি আটটি হাটের কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় এবং কোনোটিতে দরপত্র দাখিল না হওয়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করেছে দুই সিটি করপোরেশন।
ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) ইজারা দেওয়া হাটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দর উঠেছে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটে। এই হাটের সর্বোচ্চ ইজারা মূল্য পাওয়া গেছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন লাভ করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ির পানির পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত হাটের, যার ইজারা পেয়েছে কে বি ট্রেড। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অস্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের স্থায়ী ‘গাবতলী পশুর হাট’ ও ঢাকা দক্ষিণের ‘সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাট’-এও কোরবানির পশু বিক্রি করা হবে। আগামী ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে এবং ঈদের দিনসহ মোট পাঁচদিন এসব হাটে পশু বেচাকেনা চলবে।
ডিএনসিসির ১০টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা), মিরপুর কালশী বালুর মাঠ (৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশে (১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা), ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর (২৭ লাখ টাকা), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৭ লাখ টাকা), বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা), বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজ (২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা) এবং বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা (৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, যে ১০টি হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি টির হাটে কাঙ্ক্ষিত দর মিললে সম্পত্তি বিভাগ থেকে ইজারা দেওয়া হবে।
অপরদিকে, ডিএসসিসির আওতাধীন ১১টি হাটের মধ্যে ৯টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় (৪ কোটি ১ লাখ টাকা), উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা (৩ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা), আমুলিয়া মডেল টাউন (২ কোটি ১৫ লাখ টাকা), শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা (৪ কোটি ২০ লাখ টাকা), মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিং (৭০ লাখ টাকা), ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে (১ কোটি ৪০ লাখ টাকা), গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশে (৫৩ লাখ ণব্বই হাজার ৩৩৪ টাকা) এবং রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা (৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা) ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি হাটের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, নয়টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হলেও বাকি দুটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর মেলেনি। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারিরা হাটে পশু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন এবং হাটগুলোতে প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।