বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
Title :
বিএনপি জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশি আটক ভারতে সরকারি উদ্যোগে গোমূত্র ক্রয়, লিটারপ্রতি দর ২০ রুপি ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র: আইআরজিসি হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের অবদান নেই: রিজভী নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগে একক, বিএনপিতে একাধিক

  • Update Time : রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১৮৬ Time View

ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়নগঞ্জ – ৪ আসন। এই আসনটির দুই দিকে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা – শীতলক্ষ্যা নদী। এছাড়াও এই আসনটি শিল্প সমৃদ্ধিতে রব রব। তাই এই আসনটিকে নদী প্রবাহিত ও শিল্প নগরী বলা হয়। এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাকী আর মাএ কয়েক মাস। এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। তবে নারায়ণগঞ্জ সংসদীয় পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ – ৪ আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে শামীম ওসমান নৌকার ব্যানারে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

এছাড়াও শামীম ওসমানের এক চুটকিতে হাজার হাজার লোক জমায়েত হয়। তাই এই আসনটিকে শামীম ওসমান ঘাটিও বলা হয়। তবে নির্বাচন গনিয়ে এলে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ নৌকার মাঝি হতে একটু উঁকি মারেন। আবার শেষ বেলায় মাঝ পথে ঝিঁমিয়ে যান। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাউসার আহমেদ পলাশ সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামতে পারেন এমনটাই তার কর্মী সমর্থকরা জানান দিচ্ছেন। এছাড়াও সিটির মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কাউসার আহমেদ পলাশের নির্বাচনী বিষয়ে একটু ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কাউসার আহমেদ পলাশ নির্বাচনের বিষয়ে এখনও কোন মুখ খুলেননি। এদিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামবেন বিএনপির একাধিক প্রার্থী। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা মাঠের বাহিরে। আর ক্ষমতায় আসতে কার মন না চায়। তাই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ইতিমধ্যে দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন, শিল্পপতি শাহআলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মর্ডেল গ্রুপ চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুদ মনোনয়ন চাইবেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন দীর্ঘ দিন ধরে তারা নির্বাচনী মাঠে নেই তাই দল যাকে মনোনয়ন দিবেন সকলেই তার হয়ে এক কাতারে সামিল হবেন।
জানাগেছে, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনে ধানের শীর্ষ প্রতিক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ কমান্ডাকে পরাজিত করে সর্ব প্রথম শামীম ওসমান নৌকা প্রতিক নিয়ে এমপি নির্বাচন হন।

এমপি নির্বাচন হওয়ার পর শামীম ওসমানের একক আধিপত্য বিস্তারে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় । শুধু তাই নয় এই অনিয়মের কারণে শামীম ওসমানকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দল থেকে কোন মনোনয়ন দেয়া হয় নাই। তার আসনটিতে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এক সময়ে জনপ্রিয় নায়িকা শারাহ্ বেগম কবরীকে নৌকা প্রতিক দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে কবরী জয় লাভ করে পার্লামেন্ট সদস্য হন। তবে শারাহ্ বেগম কবরী নৌকার মাঝি হয়ে বিএনপির সাথে আতাত সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। যা দলের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। পরবর্তীতে কবরী ও দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০১৪ সালে শামীম ওসমানকে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে শামীম ওসমান নিজের আসনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লুফে নেন। যা একাদশ নির্বাচনেও শামীম ওসমান পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। পরে ওই নির্বাচনও তিনি নৌকার মাঝি হয়ে পার্লামেন্ট সদস্য হন

এদিকে সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপি সক্রিয় ভাবে মাঠে থাকলেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না। একের পর এক হামলা মামলা যা দলকে এক কঠিন বিপর্জয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারপর ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় টিকিট পেতে যার যার অবস্থান থেকে প্রচার-প্রচরণা ও হাইকমান্ডে লবিং তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন খোকা মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন। প্রচার প্রচরণায় তিনি এখনো মাঠে না নামলেও মনোনয়ন চাইবেন বলে তার কর্মী সমর্থকদের কাছ থেকে শুনা যাচ্ছে।

জানা গেছে, বিএনপির সাবেক সংসদ গিয়াসউদ্দিন জনপ্রিয়তায় রয়েছেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতায় ২০০১ সালে নৌকার মাঝি শামীম ওসমানকে হারিয়ে ধানের প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেন। তার নেতাকর্মীদের দাবী দল যদি গিয়াসউদ্দিনকে প্রার্থী করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে আবার পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। এদিকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে শিল্পপ্রতি শাহআলমের ও অবস্থান তুলনা মূলক ভাবে কম নয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি অল্প ভোটের জন্য নৌকার মাঝি সারাহ্ বেগম কবরীর কাছে হেরে যান। কর্মী সমর্থকদের দাবী শাহআলম সক্রিয় ভাবে মাঠে না থাকলেও তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি একটি শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। জনসমর্থন মতে শাহআলমকে ধানের শীর্ষ প্রতিক দিলে বিএনপি চার আসনের কান্ডারি হতে পারেন। তাই মনোনয়ন তাকেই দেওয়া উচিত।

এদিকে  রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে যিনি নিবেদিত প্রান তিনি হলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। যিনি দলের জন্য সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি রাজপথের আন্দোলনে বার বার হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। দলের জন্য দফায় দফায় কারাবন্দী হয়েছেন। এখনো রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মতে মামুন মাহমুদের হাতে ধানের শীর্ষের প্রতিক দেওয়া উচিত। কারন তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দল প্রান ফিরে পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category