মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে সাধারণ জনগণকে দুর্যোগের পূর্বাভাস জানানোর পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান।
তিনি বলেন, এই ধরনের আগাম সতর্কবার্তা একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি। এর পরিপেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট আগাম কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠী, তাদের জীবিকা এবং সম্পদকে রক্ষা করে।
সোমবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ইকো)- এর অর্থায়নে ‘সুফল কনসোর্টিয়াম সামাজিক সুরক্ষা পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রম’ এর অর্থায়নে পরীক্ষামূলক গবেষণার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সচিব বলেন, ‘সুফল প্রকল্প বন্যার বিপদসীমা মূল্যায়নে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রকে যে সহায়তা করছে তা খুবই সময়োপযোগী।’
কর্মশালার সভাপতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের সকলকে সমন্বিতভাবে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’
একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘পূর্বাভাস হবে জনগণের বোধগম্য ভাষায়। যেহেতু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আগাম কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অর্থায়নের লক্ষ্যে যদি বর্তমান গাইডলাইনে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেটি আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।’
রাইমস- এর বর্তমান পরামর্শক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল কর্মশালায় উপস্থিত সবাইকে দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট জনগণের দুর্দশাকে উপলব্ধি করে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্টের সোলাইমান মুহিত তার উপস্থাপনায় নথি পর্যালোচনা এবং জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমগুলো পেশ করেন যা পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেগুলো হলো: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নগদ অর্থ সহায়তা (জিআর), অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, এবং প্রতিবন্ধী ভাতা।
সুফল কনসোর্টিয়ামের কো-অর্ডিনেটর কাজী রাবেয়া এমি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রমের অর্থায়নে অন্তর্ভুক্তিকরণ মূলক গবেষণা সম্পর্কিত ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। তার ধারণাপত্রে ২০২৩ সালের সম্ভাব্য বন্যায় আগাম কার্যক্রম গ্রহণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নগদ অর্থ সহায়তা (জিআর), ও অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)- পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা পেশ করা হয়। এর ভিত্তিতে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সিভিল প্রোটেকশন এন্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ইকো)- এর অর্থায়নে, ‘স্কেলিং-আপ ফ্লাড ফোরকাস্ট-বেসড অ্যাকশন অ্যান্ড লার্নিং ইন বাংলাদেশ (সুফল ২)’ একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্প। কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃতে, কন্সার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের অংশগ্রহণে এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম ফর আফ্রিকা অ্যান্ড এশিয়া (রাইমস)- এর কারিগরি সহায়তায়, ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং এসকেএস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় মৌসুমি বন্যার প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পূর্বাভাসভিত্তিক পূর্বপদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।