ভারতের দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের ভ্যানে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের মারধর করেন। কয়েকজনের গলা চেপে ধরা ও যৌনাঙ্গে লাথি মারার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওরিন নামের এক নারী বিক্ষোভকারী এসব অভিযোগ করেন। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সদস্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার মধ্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে একটি ভ্যানে তোলে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জনই নারী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নওরিন অভিযোগ করেন, ভ্যানে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা একে একে তাদের মারধর করতে শুরু করেন। দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সদস্য শারন্যাকে ভ্যানের ভেতরে ফেলে এক নারী পুলিশ সদস্য তার গলা চেপে ধরেন। আরেক পুলিশ সদস্য কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন নওরিন। পরে এক পুলিশ সদস্য শারন্যাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
নওরিন আরও দাবি করেন, ভ্যানে থাকা অন্য নারী বিক্ষোভকারীদের বুক ও যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়। তাদের কয়েকজনের মুঠোফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা-ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার ও রোববার দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও প্রতিবাদী সংগঠনের সদস্যরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে যাওয়ার কর্মসূচি নিলে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পরে মিছিলটি যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে।