রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি বা এয়ারস্পেস ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটটি আটকে গেছে। এখন বিকল্প রুটে আগামী মাসে জ্বালানির চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের উড়োজাহাজকে যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়, সেসব দেশের অনুমতি আগে নিতে হয়। গত বৃহস্পতিবারের চালানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। নতুন রুটে চালান পাঠানোর বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি প্রথমে গত জুনে আসার কথা ছিল। পরে দুই দফা সময় পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য রাশিয়ায় নির্ধারিত উড়োজাহাজে জ্বালানি তোলা হয়। বাংলাদেশেও চালান গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তবে শেষ সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চালান পাঠাতে বিলম্ব হবে।
তবে কোনো দেশের আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ার কারণেই ফ্লাইটটি আসতে পারেনি কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে, জ্বালানি আসতে বিলম্ব হলেও প্রকল্পের কাজে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কারণ দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের কাজ শেষ করে জ্বালানি লোডিংয়ের পর্যায়ে যেতে এখনও সময় লাগবে।
রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য এ পর্যন্ত মোট ইউরেনিয়াম জ্বালানির সাতটি চালান বাংলাদেশে এসেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে এসব চালান দেশে পৌঁছায়। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরও সাতটি চালান আসার কথা।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এসব চালান পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসবে।
প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতোমধ্যে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী পর্যায়ের কিছু জ্বালানিও এসব চালানের সঙ্গে দেশে আনা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। তখন প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে।
পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাশিয়া থেকে আসা জ্বালানি প্রথমে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বিশেষ যানবাহনে সড়কপথে তা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানিও একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দেশে আনা হয়েছিল।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা।