রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের পর আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ওই কেন্দ্রের ভেতরেই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আগে গতকাল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কেন্দ্রের গেট খুলে দেওয়া হয়। পরে সেন্টারের সামনে ও ভেতরে পড়ে থাকা ইটসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রাড্ডা সেন্টারের সামনের গেট খোলা রয়েছে। ভাঙচুরের পর ভেতরে পড়ে থাকা মালামাল সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। একটি কক্ষে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চলছে। অন্য কয়েকটি কক্ষে টেবিল-চেয়ার বসানোর কাজ চলছে।
একটি কক্ষে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে।
ছয় মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে আসা রেশমা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার আশপাশের সবাই এখান থেকেই টিকা দেয়। মেয়েকে প্রথম টিকা দিতে নিয়ে আসলাম।’
নাতনিকে নিয়ে আসা লিলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েকে এই সেন্টার থেকে টিকা দিয়েছি। নাতনিকেও আগে টিকা দিয়েছি। আজকে আবার নিয়ে আসলাম।’
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর আজ সেন্টারের গেট খুলে দিয়েছে। ভেতরে ভাঙচুর করা জিনিসপত্র সরিয়ে দেওয়ায় সীমিত আকারে আমাদের সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা শুরু হয়েছে।’
হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
এদিকে সকাল থেকে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের কাছে প্রশাসনের ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দলীয় প্রভাব থাকলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও শক্ত অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।