শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন

চুক্তির শর্ত মানলে সাতদিনেই হরমুজ খুলবে: ইরান

  • Update Time : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি স্বাক্ষরিত হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি জানান, নতুন প্রস্তাবে যেসব বিষয় রাখা হয়েছে, সেগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয় দেশটি।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান অস্থিরতা দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়িয়েছে। যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়েও তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে আরাঘচি বলেন, “যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে। সাতদিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল হতে পারে। প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করবে সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে।”

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আরাঘচি। তিনি বলেন, “যেসব শর্ত মার্কিনিদের দেওয়া হয়েছে সেগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই আছে। নতুন কিছু নেই।”

গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রণালিটি ঘিরে ভবিষ্যৎ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলেও সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়।

তবে দুই দেশ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

এরপর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুমোদনবিহীন রুট ব্যবহার করে চলাচলের কারণে এসব জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category