ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র নগরী মক্কায় হামলার অভিযোগ তুলেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের কথিত হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ৯০ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার শামিল।
চলতি মাসে হুতিদের ধারাবাহিক হামলাকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বড় একটি অংশ সাধারণত বাদশাহ সালমানের ছেলে ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করেন। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাদশাহর সরাসরি ও কঠোর বক্তব্যকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব দাবি করে, হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হুতি গোষ্ঠী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবের এই দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ এই নগরীতেই অবস্থিত।
পবিত্র স্থান, হাজি, নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন বাদশাহ সালমান। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর যেকোনো হামলা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলায় সৌদি বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌযান লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে।
শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার পথে প্রতিহত করা হয়েছে। এর পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করায় হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধের পরিস্থিতিতে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প নৌপথ হিসেবেও এ অঞ্চলের গুরুত্ব বেড়েছে।
এরই মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।