রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
Title :
মিয়ানমারের ওপর চাপ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়: শামা ওবায়েদের তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু মহেশখালীতে বসছে আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই আইজেনকট, ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান কী? সৌদি আরবের আরামকো টাওয়ারে বিস্ফোরণ, উড়ে গেছে দরজা-জানালার কাচ সৌদিতে দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক দেশে খাদ্য মজুদ ২২ লাখ মেট্রিক টন: খাদ্যমন্ত্রী চীনের অটোমোবাইল জায়ান্ট বিওয়াইডি ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড অব দ্য ইয়ার’ এর স্বীকৃতি পেয়েছে: বিওয়াইডির নতুন মাইলফলক অর্জন জ্বালানি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-মস্কো সমঝোতা বগুড়ার ধুনটে ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৯ Time View

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি আবার নিজেদের পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। অন্যদিকে চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করার পথও তিনি বেছে নিতে পারেন বলে জানান।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দূরে রেখেছে। তিনি এ অবস্থানকে তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। তবে কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত ছিল। অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিগগিরই এ যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এআই নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি প্রযুক্তিটির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের পক্ষেও মত দেন তিনি।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভাষণে কিউবার সরকারকেও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করার সময় কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ট্রাম্প। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে একটি চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।

ট্রাম্পের ভাষণের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ইরানকে নিয়ে তার সরাসরি হুঁশিয়ারি। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশে পরিণত হতে দেবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব-এবং তা দ্রুত করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ ও দেশকে হত্যা বা ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?”

এদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা-দুই ধারাতেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category