মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই ক্যাম্প ডেভিডের সফর সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান।
একই সময়ে ক্যাম্প ডেভিডের কাছে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি বিমানকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে বাধা দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিড থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের ফেরার কথা ছিল। তবে কেন তিনি নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই হোয়াইট হাউসে ফিরে এলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থানের সময় হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে জানায়, তিনি মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে করে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৫টা) প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারটি দ্য এলিপসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে কর্মসূচি পরিবর্তনের কারণ জানানো হয়নি।
এর আগে শনিবার ক্যাম্প ডেভিডের কাছে মেরিল্যান্ডের থারমন্টের ওপর দিয়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি সাধারণ বিমানকে বাধা দেয় নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। পরে বিমানটিকে নিরাপদে ওই এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ফার্স্ট এয়ারফোর্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় মাটিতে থাকা মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। ট্রাম্প বা প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্রের জন্যও কোনো হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চল এবং এর মধ্য দিয়ে ভ্রমণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের ট্রাভেল ডট গভ অ্যাকাউন্ট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধসহ অন্যান্য ধরনের ভোগান্তি ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জটিল। যেকোনো সময় পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও সতর্ক করে বলেছে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা রয়েছে। এই সংঘাত ‘দ্রুত আরও বড় আকার নিতে পারে’ বলেও সতর্ক করেছে তারা।
এ ছাড়া ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।